বিরল রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের পরীক্ষা ব্যর্থ, চাপে বড় ওষুধ কোম্পানি
বিরল জেনেটিক রোগ Angelman syndrome-এর নতুন ওষুধ apazunersen-এর Phase 3 পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে। ফলাফলের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যয় কমানোর চাপে পড়েছে Ultragenyx।
বিরল জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধ তৈরির প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Ultragenyx Pharmaceutical। Angelman syndrome-এর জন্য পরীক্ষাধীন ওষুধ apazunersen (GTX-102)-এর Phase 3 clinical trial প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, Aspire নামের গবেষণাটি এর প্রধান endpoint এবং গুরুত্বপূর্ণ secondary endpoint—কোনোটিই পূরণ করতে পারেনি।
এই ব্যর্থতার পর কোম্পানিটি apazunersen-এর উন্নয়ন কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসার অন্যান্য অংশ চালু রাখার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।
Angelman syndrome কী?
Angelman syndrome একটি বিরল জেনেটিক ও স্নায়বিক রোগ, যা মূলত শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশকে প্রভাবিত করে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিকাশে বিলম্ব, শেখার সমস্যা, কথা বলার ক্ষেত্রে গুরুতর সীমাবদ্ধতা এবং চলাফেরায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে খিঁচুনি, ভারসাম্যহীনতা ও ঘুমের সমস্যাও থাকতে পারে।
রোগটি বিরল হওয়ায় এর জন্য কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করা বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হলেও রোগটির মূল জেনেটিক কারণকে লক্ষ্য করে কার্যকর চিকিৎসার প্রয়োজন দীর্ঘদিনের।
নতুন ওষুধটি কী ছিল?
Apazunersen, যা আগে GTX-102 নামে পরিচিত ছিল, একটি antisense oligonucleotide (ASO) ওষুধ। এটি Angelman syndrome-এর সঙ্গে সম্পর্কিত জেনেটিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। গবেষকদের লক্ষ্য ছিল রোগীদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও অন্যান্য কার্যকরী দক্ষতার উন্নতি ঘটানো।
Ultragenyx-এর Phase 3 Aspire গবেষণায় পূর্ণ maternal UBE3A gene deletion থাকা ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গবেষণায় মোট ১২৯ জন অংশগ্রহণকারীকে ওষুধ অথবা sham treatment-এ প্রায় সমানভাবে ভাগ করা হয়।
Phase 3 পরীক্ষায় কী ফল পাওয়া গেল?
Aspire গবেষণার প্রধান লক্ষ্য ছিল Bayley-4 cognitive raw score-এর মাধ্যমে জ্ঞানীয় সক্ষমতার পরিবর্তন পরিমাপ করা। কিন্তু apazunersen গ্রহণকারী এবং নিয়ন্ত্রণ গ্রুপের মধ্যে এমন কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি, যা ওষুধটির কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে।
গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ secondary endpoint Multidomain Responder Index (MDRI)-তেও ওষুধটি প্রত্যাশিত ফল দেখাতে পারেনি। এই সূচকে cognition, receptive communication, behavior, gross motor function এবং sleep—এই পাঁচটি ক্ষেত্রের পরিবর্তন বিবেচনা করা হয়েছিল।
Ultragenyx জানিয়েছে, গবেষণায় ওষুধ গ্রহণকারী ও নিয়ন্ত্রণ গ্রুপের মধ্যে cognition বা MDRI-এর ফলাফলে এমন কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি, যা চিকিৎসার কার্যকারিতাকে সমর্থন করে।
ওষুধটি কি নিরাপদ ছিল?
কার্যকারিতার ক্ষেত্রে গবেষণাটি ব্যর্থ হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Aspire গবেষণায় দেখা safety profile আগের Phase 1/2 গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। অর্থাৎ এই Phase 3 গবেষণায় নতুন কোনো বড় safety signal কোম্পানি উল্লেখ করেনি।
তবে একটি ওষুধ নিরাপদ বলে মনে হওয়া এবং রোগের চিকিৎসায় কার্যকর হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়। নতুন ওষুধ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা—উভয় দিকের প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এই ব্যর্থতা গুরুত্বপূর্ণ?
Angelman syndrome-এর মতো বিরল রোগের ক্ষেত্রে রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় clinical trial পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। একই সঙ্গে রোগের বিভিন্ন উপসর্গ পরিমাপ করে ওষুধের প্রকৃত উপকার নির্ধারণ করাও জটিল হতে পারে।
Apazunersen-এর ক্ষেত্রে আগের Phase 1/2 ও দীর্ঘমেয়াদি extension study থেকে ইতিবাচক ফলের আশা তৈরি হয়েছিল। কোম্পানির ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত ৭৪ জন রোগী GTX-102 পেয়েছিলেন এবং তাদের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু বড় ও নিয়ন্ত্রিত Phase 3 পরীক্ষায় আগের পর্যায়ের প্রত্যাশিত সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় ওষুধটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কোম্পানির ওপর কেন চাপ বাড়ছে?
একটি বড় Phase 3 trial ব্যর্থ হলে শুধু একটি ওষুধের উন্নয়নই বাধাগ্রস্ত হয় না; গবেষণা ও উন্নয়নে করা বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। Ultragenyx ইতিমধ্যে apazunersen-এর ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কথা বলেছে।
এর আগে ২০২৬ সালের শুরুতেই কোম্পানি একটি strategic restructuring plan ঘোষণা করেছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৩০ কর্মী বা ১০ শতাংশ workforce কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছিল এবং ২০২৭ সালে R&D ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।
নতুন trial failure-এর ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে বাজার বিশ্লেষণে আলোচনা হয়েছে। গবেষণার ফল প্রকাশের পর কোম্পানিটির শেয়ারের দামও তীব্রভাবে কমে যায়।
তাহলে কি Angelman syndrome-এর চিকিৎসার আশা শেষ?
একটি ওষুধের Phase 3 trial ব্যর্থ হওয়া মানেই রোগটির চিকিৎসার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। Angelman syndrome-এর জেনেটিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। ভিন্ন molecular target, gene therapy, antisense technology এবং অন্যান্য পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
তবে apazunersen-এর ব্যর্থতা এই নির্দিষ্ট therapeutic approach-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। গবেষকদের এখন বুঝতে হবে কেন আগের পর্যায়ের ফল Phase 3 পর্যায়ে পুনরায় পাওয়া গেল না এবং ভবিষ্যতের গবেষণায় কোন বিষয়গুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
কোম্পানির অন্য ওষুধের কী অবস্থা?
Ultragenyx-এর ব্যবসা শুধু apazunersen-এর ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রতিষ্ঠানটি বিরল ও অতি-বিরল জেনেটিক রোগের জন্য একাধিক চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬ সালের আগস্টে কোম্পানির GENGLYCOS gene therapy যুক্তরাষ্ট্রের FDA অনুমোদন পেয়েছে, যা glycogen storage disease type Ia-এর অন্তর্নিহিত কারণকে লক্ষ্য করে তৈরি।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, Sanfilippo syndrome type A-এর সম্ভাব্য চিকিৎসা UX111-এর নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ছিল। ফলে apazunersen-এর ব্যর্থতার পরও প্রতিষ্ঠানটির pipeline-এ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্প রয়েছে।
বিরল রোগের ওষুধ তৈরিতে এত ঝুঁকি কেন?
বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় clinical trial-এর জন্য উপযুক্ত অংশগ্রহণকারী খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। অনেক রোগের প্রাকৃতিক ইতিহাসও পুরোপুরি বোঝা যায় না। ফলে কোন outcome বা biomarker ব্যবহার করে ওষুধের কার্যকারিতা সবচেয়ে ভালোভাবে মাপা যাবে, সেটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এর পাশাপাশি বিরল রোগের চিকিৎসায় গবেষণার খরচ অনেক বেশি হতে পারে এবং রোগীদের জন্য কার্যকর চিকিৎসার প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি। ফলে একটি Phase 3 trial-এর ব্যর্থতা রোগী, পরিবার, গবেষক এবং বিনিয়োগকারী—সব পক্ষের জন্যই বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণার ব্যর্থতা থেকে কী শেখা যায়?
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কোনো ওষুধ ব্যর্থ হওয়া মানেই গবেষণা অর্থহীন নয়। বরং কোন চিকিৎসা পদ্ধতি কাজ করছে না, কোন endpoint যথেষ্ট সংবেদনশীল নয় এবং কোন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার সম্ভাবনা বেশি—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
Apazunersen-এর ক্ষেত্রেও Phase 3 গবেষণার ফল ভবিষ্যতের Angelman syndrome গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিশেষ করে রোগের বিভিন্ন জেনেটিক ধরন, বয়স এবং clinical outcome-এর মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শেষ কথা
Angelman syndrome-এর জন্য apazunersen-এর Phase 3 Aspire trial ব্যর্থ হওয়া বিরল রোগের চিকিৎসা গবেষণায় একটি বড় ধাক্কা। ওষুধটি cognition এবং multidomain clinical response—দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যেই placebo বা sham treatment-এর তুলনায় প্রত্যাশিত সুবিধা দেখাতে পারেনি।
এর ফলে Ultragenyx ওষুধটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য অনুমোদিত ও পরীক্ষাধীন চিকিৎসা এখনো pipeline-এ রয়েছে। এই ঘটনা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়—ল্যাবরেটরি ও প্রাথমিক পর্যায়ের আশাব্যঞ্জক ফলকে রোগীদের জন্য কার্যকর চিকিৎসায় রূপ দিতে বড় ও নিয়ন্ত্রিত clinical trial কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
ওয়াউ
0