চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না -স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অটোমেশন পদ্ধতিতে মেধা, যোগ্যতা ও পছন্দের ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৭ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরও বিস্তৃত পরিসরে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের মেধা, যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পদায়ন করা হবে। ফলে বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পক্ষপাতিত্ব কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না।
আজ ঢাকায় সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।
অটোমেশন পদ্ধতিতে ৮৭ চিকিৎসকের পদায়ন
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নতুন অটোমেশন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৭ জন চিকিৎসককে তাঁদের পছন্দ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু করা দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কিংবা অন্য কোনো ধরনের প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। বরং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসকদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও পছন্দের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অটোমেশন চালুর পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর এর কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, ফলাফল এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আরও বিস্তৃত পরিসরে এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।
তিনি বলেন, অটোমেশন পদ্ধতি স্বাস্থ্য প্রশাসনে একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়। পরিকল্পিতভাবে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য খাতে দলীয়করণ ও অনিয়মের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করতে হয়। তবে অতীতে, বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে, এ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার চিত্র বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মূল্যায়নে গুরুত্ব
অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নের উদ্যোগকে স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো, চিকিৎসকদের পেশাগত যোগ্যতা, মেধা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পদায়নের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযাচিত প্রভাবের সুযোগ কমানো।
স্বাস্থ্য খাতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসকের কর্মস্থল নির্ধারণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বদলি ও পদায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি কার্যকর করা গেলে চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপসংহার
চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৭ জন চিকিৎসকের পদায়নের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরও বিস্তৃত পরিসরে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত প্রভাবের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা এবং পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
পছন্দ
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
ওয়াউ
0