২-৩ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হবে কন্ট্রাসেপটিভ ও ঔষধের সরবরাহ

আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে কন্ট্রাসেপটিভ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ক্রয়প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

সেপ্টে 26, 2026 - 12:25
 0  2
২-৩ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হবে কন্ট্রাসেপটিভ ও ঔষধের সরবরাহ
২-৩ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হবে কন্ট্রাসেপটিভ ও ঔষধের সরবরাহ—স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

২-৩ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হবে কন্ট্রাসেপটিভ ও ওষুধের সরবরাহ

বাংলাদেশে কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন। গত ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশ্বাস দেন। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কন্ট্রাসেপটিভ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের ক্রয়প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুত মাঠপর্যায়ে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিন বছর ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

সংসদে দেওয়া তথ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত প্রায় তিন বছর ধরে কন্ট্রাসেপটিভ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম ছিল। এর ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কন্ট্রাসেপটিভ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ঘাটতি সেবাদানের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কন্ট্রাসেপটিভ, চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বর্তমানে এসব সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সেবা কেন্দ্রে তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সরবরাহের গুরুত্ব

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সুযোগ নিশ্চিত করা। সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সেলিং, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এসব সেবা জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ ও তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি বাড়ি পরিদর্শন, স্যাটেলাইট ক্লিনিক এবং কমিউনিটি পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমেও পরিচালিত হয়।

মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ

শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ওষুধ ও কন্ট্রাসেপটিভ সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়; সময়মতো সেগুলো মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করার পর দ্রুত এসব সামগ্রী মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা। এর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর এবং জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো নিরবচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কন্ট্রাসেপটিভ ও ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে সেবা গ্রহণকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া সহজ হতে পারে।

পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থায় জনবল সংকটও রয়েছে

সরবরাহের পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের জনবল ঘাটতির বিষয়টিও সংসদে উঠে এসেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) পদে মোট ১ হাজার ৫৪৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৮০৭টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এসব পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিভিন্ন বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকসহ অন্যান্য পদে নিয়োগের বিষয়েও বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্যোগ

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও সংসদে জানানো হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ প্রতিরোধের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্য রয়েছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

কন্ট্রাসেপটিভ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সাময়িক বিঘ্ন কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু সরবরাহ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো, প্রশিক্ষিত জনবল থাকা, সেবা সম্পর্কে মানুষকে যথাযথ তথ্য দেওয়া এবং নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাস্তবে সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হয়েছে, তা নির্ভর করবে ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া, বিতরণ ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানোর ওপর। ফলে আগামী কয়েক মাসে পরিবার পরিকল্পনা সেবার বিভিন্ন পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় কন্ট্রাসেপটিভ ও ওষুধের ঘাটতি কমানো এবং জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হতে পারে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), The Business Standard (TBS) ও The Daily Star-এর ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
ওয়াউ ওয়াউ 0
admin mediscript (Medi+Script) is dedicated to advancing health awareness, medical education, and community well-being. Our organization serves as a vibrant platform where healthcare knowledge meets daily living, aiming to inspire hope, happiness, and a healthier future for all. Our mission is to empower individuals, families, and communities with reliable, up-to-date medical information and research. We are committed to supporting both the public and healthcare professionals with educational resources that foster informed decision-making and promote wellness. By bridging modern medical science with everyday life, mediscript inspires people to embrace healthier habits, seek new knowledge, and pursue happiness through holistic well-being. Together, we are building a brighter, more hopeful future—one script at a time.