আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বসুন্ধরায় গড়ে উঠছে ১ হাজার শয্যার 'মেডিকেল সিটি'।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ও এস রহমান প্রপার্টিজের অংশীদারত্বে গড়ে উঠছে ১ হাজার শয্যার বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল।

সেপ্টে 24, 2026 - 13:15
 0  1
আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বসুন্ধরায় গড়ে উঠছে ১ হাজার শয্যার 'মেডিকেল সিটি'।
আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বসুন্ধরায় গড়ে উঠছে ১ হাজার শয্যার 'মেডিকেল সিটি'।

বসুন্ধরায় গড়ে উঠছে ১ হাজার শয্যার ‘মেডিকেল সিটি’

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’ নামে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে থাকবে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল। তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (টিবিজি) ও এস রহমান প্রপার্টিজের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এ প্রকল্পের শেয়ার বিক্রি ও বুকিং মেলা শুরু হয় এবং উদ্যোক্তারা আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন।

বসুন্ধরায় কেন এই ‘মেডিকেল সিটি’?

বাংলাদেশে জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগী দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর পেছনে উন্নত চিকিৎসা অবকাঠামো, বিশেষায়িত সেবা, আধুনিক প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট চিকিৎসা সুবিধার প্রাপ্যতার মতো বিভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে। বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি প্রকল্পের উদ্যোক্তারা এমন একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও সহায়ক সেবা একই কমপ্লেক্সে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে প্রকল্পটি এখনও নির্মাণের উদ্যোগ ও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। ফলে হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর ঠিক কোন কোন সেবা, কতটা সক্ষমতা বা কোন প্রযুক্তি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।

থাকবে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল

প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক ঢাকায় নির্মিতব্য এই হাসপাতালকে উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এক হাজার শয্যার মতো বড় হাসপাতাল পরিচালনার জন্য শুধু ভবন ও চিকিৎসা সরঞ্জামই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশিক্ষিত সহায়ক জনবলও প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা, অপারেশন থিয়েটার, ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি ও রোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

২৫টি ক্লিনিক্যাল বিভাগ ও ১১টি বিশেষায়িত কেন্দ্রের পরিকল্পনা

প্রকাশিত প্রকল্প-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ২৫টি ক্লিনিক্যাল বিভাগ, ১১টি বিশেষায়িত কেন্দ্র এবং ২৬টি অপারেশন থিয়েটারকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা-পরবর্তী সেবাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা বা চিকিৎসার জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে। তবে এই সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে হাসপাতাল চালুর পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, আধুনিক যন্ত্রপাতি, ক্লিনিক্যাল প্রটোকল এবং সেবার মান কতটা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর।

মেডিকেল ট্যুরিজমেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্যে মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জটিল চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া রোগীদের একটি অংশকে দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক রোগী আকর্ষণ করতে শুধু আধুনিক ভবন বা যন্ত্রপাতি যথেষ্ট নয়। চিকিৎসার মান, রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসকদের দক্ষতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ খরচ, আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রটোকল এবং রোগীর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

বিনিয়োগ ও শেয়ার বুকিং কার্যক্রম শুরু

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) প্রকল্পটির শেয়ার বিক্রি ও বুকিং মেলা শুরু হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতাল প্রকল্পে মোট ২ হাজার শেয়ার থাকবে। মেলার উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পে হাসপাতালের পাশাপাশি মেডিকেল শপ ও চিকিৎসকদের চেম্বারেও বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিশেষ ছাড় ও কিস্তি সুবিধার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য হওয়ায় আগ্রহী ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকল্পের মালিকানা, শেয়ারের শর্ত, অর্থপ্রদান, ঝুঁকি ও অন্যান্য আইনগত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু বড় হাসপাতাল নয়, প্রয়োজন মানসম্মত চিকিৎসা

একটি বড় হাসপাতাল নির্মাণ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হাসপাতালের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে রোগীরা সেখানে কতটা নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পান তার ওপর। পর্যাপ্ত জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার এবং রোগীর তথ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ১ হাজার শয্যার মতো বড় প্রতিষ্ঠানে রোগীর চাপ সামলাতে শক্তিশালী জরুরি বিভাগ, দক্ষ নার্সিং সেবা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং জটিল রোগীর জন্য সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। চিকিৎসার মান বজায় রাখতে নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ ও ক্লিনিক্যাল অডিটের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় সম্ভাব্য প্রভাব

উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোয় একটি বড় সংযোজন হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বড় পরিসরের চিকিৎসা সুবিধা বাড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকার রোগীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

একই সঙ্গে বড় হাসপাতালকে ঘিরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য প্রভাব প্রকল্প বাস্তবায়ন ও হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই বাস্তবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকেই এখন নজর

বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালকে ঘিরে উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য জানিয়েছেন। ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল, একাধিক ক্লিনিক্যাল বিভাগ ও বিশেষায়িত কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত সংযোজন হতে পারে।

তবে বর্তমানে প্রকল্পটি নির্মাণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে হাসপাতালটি কী পরিমাণ সেবা দিতে পারবে, চিকিৎসার ব্যয় কত হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে—এসব বিষয় প্রকল্প সম্পন্ন ও কার্যক্রম শুরুর পরই স্পষ্ট হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
ওয়াউ ওয়াউ 0
admin mediscript (Medi+Script) is dedicated to advancing health awareness, medical education, and community well-being. Our organization serves as a vibrant platform where healthcare knowledge meets daily living, aiming to inspire hope, happiness, and a healthier future for all. Our mission is to empower individuals, families, and communities with reliable, up-to-date medical information and research. We are committed to supporting both the public and healthcare professionals with educational resources that foster informed decision-making and promote wellness. By bridging modern medical science with everyday life, mediscript inspires people to embrace healthier habits, seek new knowledge, and pursue happiness through holistic well-being. Together, we are building a brighter, more hopeful future—one script at a time.