বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, চিকিৎসায় বড় চ্যালেঞ্জের সতর্কতা

বিশ্বে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বাড়ছে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি ছয়টির একটি ল্যাব-নিশ্চিত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ছিল।

সেপ্টে 20, 2026 - 10:27
 0  2
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, চিকিৎসায় বড় চ্যালেঞ্জের সতর্কতা
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, চিকিৎসায় বড় চ্যালেঞ্জের সতর্কতা

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ কেন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ?

ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, রক্তের সংক্রমণসহ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল রোগের চিকিৎসায় এসব ওষুধ বহু বছর ধরে জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার, ভুলভাবে ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে অনেক ব্যাকটেরিয়া এখন এক বা একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

এই ঘটনাকে বলা হয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)। এর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ হলো ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া সাধারণ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের প্রায় প্রতি ছয়টির একটি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ছিল।

নতুন তথ্য কী বলছে?

WHO-এর Global Antibiotic Resistance Surveillance Report 2025-এ ২০২৩ সালের ২৩ মিলিয়নেরও বেশি ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে রক্তপ্রবাহ, মূত্রনালি, পরিপাকতন্ত্র এবং গনোরিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। তথ্য এসেছে ১০৪টি দেশ থেকে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করা রোগজীবাণু ও অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বয়গুলোর ৪০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে প্রতিরোধ বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশ। তবে সব দেশ, সব জীবাণু বা সব অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে একই মাত্রার পরিবর্তন হয়নি।

WHO-এর হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরোধের হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল—প্রতিবেদনভুক্ত সংক্রমণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। আফ্রিকা অঞ্চলে এই হার ছিল প্রায় প্রতি পাঁচটির একটি সংক্রমণ।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ কীভাবে তৈরি হয়?

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে মানুষের শরীর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যায়—বিষয়টি এমন নয়। বরং ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এমন জিনগত পরিবর্তন বা বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে, যার কারণে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক আর আগের মতো কার্যকর থাকে না। প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া পরে অন্য মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া মারা যেতে পারে, কিন্তু প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকার সুযোগ পায়। সময়ের সঙ্গে এসব ব্যাকটেরিয়া সংখ্যায় বাড়তে পারে এবং সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ভুল ব্যবহারই কি প্রধান কারণ?

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের পেছনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত ব্যবহার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো রোগে অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত কার্যকর নয়, কারণ এসব রোগ ভাইরাসের কারণে হয়। কিন্তু ভুল ধারণার কারণে কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন।

আবার ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ধরন, মাত্রা বা ব্যবহারের সময়কাল সঠিক না হলেও চিকিৎসা ব্যর্থ হতে পারে এবং প্রতিরোধের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রোগীর রোগের ধরন, পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ চিকিৎসাকে কীভাবে কঠিন করে?

একটি ব্যাকটেরিয়া যখন সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে যায়, তখন চিকিৎসকের সামনে কার্যকর ওষুধের সংখ্যা কমে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বা শেষ পর্যায়ের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। এসব ওষুধ অনেক সময় বেশি ব্যয়বহুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি এবং সব জায়গায় সহজে পাওয়া যায় না।

WHO বিশেষভাবে কার্বাপেনেম-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। আগে তুলনামূলকভাবে বিরল থাকা এই ধরনের প্রতিরোধ এখন কিছু জায়গায় বেশি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসার বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

শুধু সংক্রমণের চিকিৎসাই নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের প্রভাব শুধু কোনো একটি সংক্রমণের চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। জটিল সংক্রমণের চিকিৎসা কঠিন হলে হাসপাতালে রোগীর অবস্থান দীর্ঘ হতে পারে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়তে পারে এবং গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া আধুনিক চিকিৎসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন। বড় অস্ত্রোপচার, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ক্যানসারের কিছু চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যার ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে গেলে এসব চিকিৎসার নিরাপত্তা ও সাফল্যও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে আরেকটি বড় সমস্যা

WHO-এর ২০২৫ সালের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিশ্লেষণেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে এমন অ্যান্টিবায়োটিকের অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, যেগুলো প্রতিরোধ তৈরিতে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। WHO-এর AWaRe শ্রেণিবিন্যাসে এগুলোকে Watch অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়।

জাতিসংঘের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অন্তত ৭০ শতাংশকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ Access শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে রাখার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা দেশ, অঞ্চল ও এলাকাগুলোর মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই লক্ষ্যে পৌঁছেছিল।

শুধু মানুষ নয়, প্রাণী ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে শুধু মানুষের চিকিৎসার সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। মানুষ, প্রাণী, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ—সবগুলো ক্ষেত্রের মধ্যে জীবাণু ও প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণেই WHO এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো One Health পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

মানুষ ও প্রাণীর অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার কমানো, স্বাস্থ্যসেবায় সংক্রমণ প্রতিরোধ জোরদার করা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশে প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা—সবই AMR নিয়ন্ত্রণের অংশ।

সাধারণ মানুষ কী করতে পারেন?

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।
  • সর্দি-কাশি বা অন্য ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।
  • অ্যান্টিবায়োটিকের নাম, মাত্রা বা ব্যবহারের সময়কাল নিজে থেকে পরিবর্তন করবেন না।
  • অন্য ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক নিজের জন্য ব্যবহার করবেন না।
  • চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করুন এবং কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • হাত ধোয়া, নিরাপদ খাবার ও পানি ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিন।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন প্রয়োজন?

AMR মোকাবিলায় শুধু রোগীর সচেতনতা যথেষ্ট নয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি, যাতে কোন জীবাণু কোন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল—তা জানা যায়।

WHO-এর Global Antimicrobial Resistance and Use Surveillance System বা GLASS বিভিন্ন দেশের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে। ২০২৩ সালে ১০৪টি দেশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের তথ্য জানিয়েছিল। তবে WHO বলছে, এখনও অনেক দেশে নির্ভরযোগ্য নজরদারি ব্যবস্থা নেই।

সঠিক তথ্য ছাড়া কোন অঞ্চলে কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর এবং কোথায় প্রতিরোধ বাড়ছে—তা নির্ভুলভাবে বোঝা কঠিন। তাই পরীক্ষাগার, নজরদারি ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ কি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব?

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ জীবাণুর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে প্রতিরোধ তৈরি হতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো, সঠিক রোগ নির্ণয়, যথাযথ ওষুধ নির্বাচন, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে প্রতিরোধের গতি কমানো এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে।

উপসংহার

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জ। WHO-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি ছয়টির একটি ল্যাব-নিশ্চিত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করা বহু জীবাণু-অ্যান্টিবায়োটিক সমন্বয়ে প্রতিরোধ বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অ্যান্টিবায়োটিককে সাধারণ ওষুধ হিসেবে না দেখে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া, সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সঠিক রোগ নির্ণয় ও নজরদারি বাড়ানো—সম্মিলিতভাবেই এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

পছন্দ পছন্দ 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
ওয়াউ ওয়াউ 0
admin mediscript (Medi+Script) is dedicated to advancing health awareness, medical education, and community well-being. Our organization serves as a vibrant platform where healthcare knowledge meets daily living, aiming to inspire hope, happiness, and a healthier future for all. Our mission is to empower individuals, families, and communities with reliable, up-to-date medical information and research. We are committed to supporting both the public and healthcare professionals with educational resources that foster informed decision-making and promote wellness. By bridging modern medical science with everyday life, mediscript inspires people to embrace healthier habits, seek new knowledge, and pursue happiness through holistic well-being. Together, we are building a brighter, more hopeful future—one script at a time.